নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নিউটাউন এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলন মাধ্যমে আজ শনিবার ২৪ অক্টোবর নিজ বাসায় জমির দাবিদার ফরিদুর রহমান সাজন। তাঁর অভিযোগ, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দলিল-দস্তাবেজের সঠিক তথ্য উপস্থাপন না করে আদালত, পুলিশ ও গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি তাঁদের বৈধ সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি হাফিজ উদ্দিন (আঙ্গুর) নামের এক ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের ১৪৪ ধারা জারি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে ফরিদুর রহমান সাজন এক বিবৃতিতে জমিটির মালিকানা, দখল ও বিরোধের পেছনের ঘটনা তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও বৈধ দলিলের তথ্য আড়াল করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে। আদালত, পুলিশ ও গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়ে তাঁদের পরিবারের সম্মানহানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিষ্কণ্টক জমি দখলের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জমির মালিকানার আইনি ভিত্তি তুলে ধরে ফরিদুর রহমান সাজন জানান, সংশ্লিষ্ট জমির সিএস খতিয়ান নম্বর ১৩০৪, এসএ খতিয়ান নম্বর ৪০২ ও ৪৭০, আরএস খতিয়ান নম্বর ১১৩২১ ও ৮৪৩, খারিজ খতিয়ান নম্বর ২৮২৩১ এবং হিসাব নম্বর ২৭৩/৪৮।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে মো. হাফিজ উদ্দিন (আঙ্গুর) গং কিশোরগঞ্জে রেজিস্ট্রিকৃত আমমোক্তারনামা দলিলের মাধ্যমে জমিটি তাঁর চাচা মো. মজিবুর রহমান বাবুকে প্রদান করেন। পরবর্তীতে মজিবুর রহমান বাবুর কাছ থেকে বৈধ সাফ-কবলা দলিলমূলে জমিটি ক্রয় করেন তাঁর বাবা মরহুম মাহবুবুর রহমান (খোকন)।
ফরিদুর রহমান সাজন আরও জানান, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে তিনি, তাঁর মা ও বোন জমিটির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তীতে তাঁরা জমির নামজারি, নিয়মিত খাজনা পরিশোধ এবং আইনানুগ বণ্টননামা দলিল সম্পন্ন করেন। এসব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জমি নিয়ে বিরোধের পেছনের ঘটনা তুলে ধরে ফরিদুর রহমান সাজন বলেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সজীব ও রাজীব আপন দুই ভাই এবং সম্পর্কে তাঁর ফুপাতো ভাই। আত্মীয়তার সূত্রে তাঁর বাবা জীবদ্দশায় তাঁদের নানাবাড়িতে ভাড়া থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর ওই দুই ভাই ঘর ছেড়ে না গিয়ে অন্যায্যভাবে সেখানে অবস্থান করতে থাকেন। পরবর্তীতে তাঁরা কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকার আব্দুল মুমেন (বাবুল) নামের এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। ওই চক্র তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফরিদুর রহমান সাজনের দাবি, চাঁদা না পেয়ে এবং নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করতে না পেরে তাঁরা জমিটির সাবেক মালিক হাফিজ উদ্দিন (আঙ্গুর)কে সামনে রেখে মামলা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে ফরিদুর রহমান সাজন বলেন, তাঁরা সবসময় দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, খতিয়ান, নামজারি এবং অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “প্রকৃত ঘটনা ও জমির বৈধ মালিকানার তথ্য আড়াল করে আমাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। আমরা চাই, জমি সংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা হোক। কোনো পক্ষের মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে যেন কাউকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা না হয়।”
তিনি আরও জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার ও ভূঁইফোড় অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।
নিউটাউন এলাকার জমি নিয়ে চলমান বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ফরিদুর রহমান সাজন। তাঁর মতে, জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, বণ্টননামা এবং আদালতের সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করলেই প্রকৃত মালিকানা ও বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।