স্টাফ রিপোর্টার: দেশের চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি।
সভা শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি সাংবাদিকদের জানান, চিংড়ি মহাল থেকে কার্যকরভাবে সরকারি রাজস্ব আদায়, অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দেশের বঞ্চিত মানুষের কাছে স্বচ্ছভাবে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় গৃহীত উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তসমূহ:
১. যেসব জমিতে বন নেই, সেসব জমি বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত।
২. বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ।
৩. বেলা কর্তৃক দায়ের করা হাইকোর্টের ৭৪৮৩/২০১২ নম্বর রিট মামলার কারণে ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত স্থগিত থাকা কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম সচল করতে মামলা নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
৪. ১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন।
৫. নতুন করে খাজনা নির্ধারণ এবং ইতোপূর্বের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, চিংড়ি খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি সংশোধন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজস্ব বৃদ্ধি নয়, এ খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা ও স্বার্থ সুরক্ষাও নিশ্চিত করা।
সভায় ভূমি সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজারের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চিংড়ি খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়।