সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের পাগলা থানা এলাকায় পাগলা–হোসেনপুর সড়কের একটি ব্রিজের ঢাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু রবিদাস। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, বাচ্চু রবিদাস (৫০), পিতা মৃত লালচাঁন রবিদাস, সাং গাজীশিমুল, থানা পাগলা, জেলা ময়মনসিংহ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তারিখে পাগলা থানা এলাকার ৯ নম্বর পাটচরা ইউনিয়নের ঘুরমশিদ মহল এলাকার একটি ব্রিজের ঢালে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখার খবর পাওয়া যায়।
অভিযোগে বলা হয়, পাগলা থেকে হোসেনপুরগামী এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে ব্রিজের ঢালে ওই নারীর মরদেহ পড়ে ছিল। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে তাঁর পরিচয়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি জানার পর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পাগলা থানা পুলিশ ও পাটচরা তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল কি না, তাঁর মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক বিষয় রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী।
বাচ্চু রবিদাস তাঁর লিখিত আবেদনে উল্লেখিত ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ ধরনের ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কোনো অপরাধ জড়িত থাকলে তা উদ্ঘাটন করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিযোগপত্রে উত্থাপিত বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন কিংবা নারীর পরিচয় শনাক্তের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা রয়েছে।