সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর চরপুমদী গ্রামে ২০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী অনু মিয়ার ছেলে মো. দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর চরপুমদী গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবারের মানুষের চলাচলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল একটি রাস্তা। ওই রাস্তা দিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত যাতায়াত করত। কিন্তু সম্প্রতি রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গত ২৪ অক্টোবর শনিবার রাতে রাস্তার একটি অংশ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসতবাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া চলাচলের রাস্তাটির একটি বড় অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। রাস্তার মাটি সরিয়ে ফেলায় সেখানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বসতবাড়ি, অন্যদিকে ফিসারির পানি থাকায় স্বাভাবিক চলাচলের পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সকালে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজনের সঙ্গে রাস্তা নিয়ে দুলাল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে রাতের আঁধারে দুলাল মিয়া তার ফিসারির পাশ দিয়ে যাওয়া প্রায় ২০০ হাত রাস্তা কেটে ফেলেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথটি বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সামনে দুলাল মিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমার নিজের জায়গার ওপর দিয়ে চলাচলের রাস্তা ছিল। আমি আমার জায়গার ওপর দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলেছি। তারা অন্য দিক দিয়ে রাস্তা করে চলাফেরা করুক। আমি আমার জায়গার ওপর দিয়ে আর রাস্তা দেব না।
অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু ব্যক্তিগত জমির বিষয় নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে ২০টি পরিবারের মানুষের চলাচলের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
পুমদী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. সুজন মিয়া বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে তৎকালীন ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ওই এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন। পাশাপাশি প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার মাটি ভরাট করা হয়। এলাকার ২০টি পরিবারের মানুষ এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে চলাচল করতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন। হঠাৎ করে রাস্তা কেটে ফেলার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য দীন ইসলাম ও খোকন মিয়া বলেন, আমরা গত দুই দিন ধরে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা কেটে ফেলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমরা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ঠিকমতো যাতায়াত করতে পারছে না। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত রাস্তা পুনরুদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।
তাদের অভিযোগ, দুলাল মিয়া এলাকার কারও কথা মানতে চান না। রাস্তা নিয়ে বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম রবিবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেখসোনা খাতুন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে রাস্তা কেটে ফেলার বিষয়টি উল্লেখ করে জনসাধারণের চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নিয়ে এমন বিরোধের দ্রুত ও ন্যায়সংগত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
এলাকাবাসী আশা করছেন, উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ২০টি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচলের পথ পুনরায় সচল করবে।