স্টাফ রিপোর্টার: ওয়াই (Y)-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং বহুমুখী সুবিধা সংবলিত ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত ৩ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই সমীক্ষা সম্পন্ন হবে। সমীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেতু দুটির চূড়ান্ত অবস্থান, কারিগরি নকশা এবং মোট প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।
বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ 'ওয়াই-আকৃতির' (Y-shape) সংযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সুগম হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প ও আধুনিক পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও উত্তরাঞ্চল: দ্বিতীয় যমুনা সেতুর পরিকল্পনায় রংপুর বিভাগসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ও কৃষি সুরক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের পানির তীব্র সংকট মোকাবিলা করা যাবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
ব্যারেজের ওপর দিয়ে নতুন সড়ক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কৌশল বৈঠকে এসব বৃহৎ প্রকল্পের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন ব্যবস্থা, দ্রুত জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের সুষ্ঠু পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।