নিজস্ব প্রতিবেদক: বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও টার্নিং পয়েন্ট হলো ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের এই দিনটিকে স্মরণ করে পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সভাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ জালাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস ও পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ও গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিলেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা।
উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন— পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তাবৃন্দ, পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত সাধারণ মানুষ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করা হয়। এরপর ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট, জাতীয় জীবনে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন— "১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী ও জনতা যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আজকের এই দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে, দেশের যেকোনো সংকটে ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে।"
অন্যান্য বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নয়, এটি সমগ্র জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। এই চেতনাকে ধারণ করে পাকুন্দিয়া উপজেলাকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও জনকল্যাণমুখী মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণের মাধ্যমে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।