আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হতে পারে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা, বন্যা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনা করে চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর বা ডিসেম্বরে ভোট না নিয়ে আগামী বছরের শুরুতে এই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (EC)।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচনের আগমন ও সার্বিক প্রস্তুতির চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
জানুয়ারিতে শুরুর সম্ভাবনা: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (আজ) নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় এ বছর ভোট হচ্ছে না। সব ঠিক থাকলে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন শুরু হবে।
তফসিল ঘোষণা: নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা নির্বাচনী তফসিল ভোটের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে কমিশন।
সমাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চাওয়া অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের মতো স্থানীয় সরকারের সবকটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
২. কেন পেছানো হলো নির্বাচনের তারিখ?
পূর্বে চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচনের একটি প্রাথমিক চিন্তাভাবনা থাকলেও ইসি বেশ কিছু বাস্তবসম্মত কারণে তা পুনর্বিন্যাস করেছে:
বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা: নভেম্বর ও ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াও আগামী বছরের রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার পুরো সূচি বিবেচনা করা হচ্ছে। যেহেতু অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়, তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত।
বন্যা পরিস্থিতি: দেশের কিছু অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও পরীক্ষাসূচি পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও কমিশন আমলে নিয়েছে।
সরকারের কোনো চাপ নেই: নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারের কোনো চাপে নয়, বরং দেশের বাস্তব পরিস্থিতি, আইন ও সংবিধান মেনেই ভোটের এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
৩. নির্বাচনী বাজেট ও সরকারি প্রস্তুতি:
৫টি স্তরের এই বিশাল নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।
এর মধ্যে গ্রামীণ জনপদের সবচেয়ে বড় উৎসব ইউনিয়ন পরিষদ (UP) নির্বাচনেই প্রায় ২,৭০০ থেকে ২,৮০০ কোটি টাকা খরচ হবে। সরকার ইতিমধ্যে এই বাজেট বরাদ্দের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
৪. নির্বাচনে নতুন নিয়ম ও রাজনৈতিক দলগুলোর তোড়জোড়
দলীয় প্রতীকহীন ভোট: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক (যেমন: নৌকা, ধানের শীষ ইত্যাদি) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে প্রার্থীরা সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও উন্মুক্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
দলগুলোর প্রস্তুতি: নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দলগুলোও মাঠ গোছাতে শুরু করেছে। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদ আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।