শফিকুল ইসলাম শামীম, পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি: ক্যালেন্ডারের পাতায় ২৮ অক্টোবর ফিরে ফিরে আসে এক বিভীষিকাময় স্মৃতি নিয়ে। আজ থেকে ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালের এই দিনে ঢাকার পল্টন ময়দানে লগি-বৈঠার যে বর্বরোচিত তাণ্ডব দেখেছিল বাংলাদেশ, তার ক্ষত আজও শুকায়নি। সেই নৃশংস রাজনৈতিক সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবার উত্তাল হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টা। ঘড়ির কাঁটা যখন ছুঁইছুঁই, ঠিক তখনই পাকুন্দিয়া প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। মুহূর্তের মধ্যেই সেই জমায়েত রূপ নেয় এক বিশাল ও সুশৃঙ্খল বিক্ষোভ মিছিলে। মিছিলটি যখন উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করছিল, তখন তাদের কণ্ঠে ছিল দুই দশক ধরে জমে থাকা সুনির্দিষ্ট এক দাবি—'পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই'।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরে মিছিলটি এসে থামে পাকুন্দিয়া বাজার জামে মসজিদের সামনে। সেখানে পড়ন্ত বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রদীপ্ত সমাবেশ।
পাকুন্দিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি আ. ন. ম. আব্দুল্লাহ মোমতাজের সুচারু সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা নাজমুল হক।
সমাবেশের মূল সুর ছিল একটাই—ন্যায়বিচার। বক্তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, দুই দশক পার হয়ে গেলেও পল্টনের সেই বর্বরোচিত ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ও খুনিদের এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি। একটি স্বাধীন ও সভ্য দেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এভাবে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করার সংস্কৃতি কখনোই পার পেতে পারে না। বক্তারা বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, অবিলম্বে যেন এই ট্রাজেডির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আদালতের মুখোমুখি করা হয়। দীর্ঘ বিশ বছরের বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি ভাঙার আহ্বান জানিয়ে মুখরিত হয় পাকুন্দিয়ার শেষ বিকেল।