বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন ও সরকারি চিকিৎসকদের প্র্যাকটিসে নিষেধাজ্ঞা।
দেশের সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে ওই সীমানার মধ্যে থাকা বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল, ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্র্যাকটিস করতে পারবেন না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতাল ও এর আশপাশে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি অংশ বিভিন্নভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দালালের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে।
এছাড়া সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকের কর্মঘণ্টার পর আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্র্যাকটিস করার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর ও রোগীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।