স্টাফ রিপোর্টার: "খেলার মাঠে ফিরুক তারুণ্যের কোলাহল, মাদক আর প্রযুক্তির মোহ কাটিয়ে গড়ে উঠুক এক সুস্থ ও সবল প্রজন্ম।"— এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর তুমুল আকর্ষণীয় আসর।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে এই মেগা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার। রঙিন বেলুন, পায়রা ও জমকালো আতশবাজির আলোয় পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত হয়ে ওঠে।
দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে লুকিয়ে থাকা রত্নতুল্য খুদে অ্যাথলেটদের খুঁজে এনে জাতীয় পর্যায়ে লালন-পালন করাই এই আসরের মূল লক্ষ্য। ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার এবং ঐতিহ্যবাহী কাবাডির মতো ইভেন্টগুলোতে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সীরা অংশ নিচ্ছে।
খুলনার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও ক্রীড়ামোদী মানুষের উপচে পড়া ভিড় পুরো স্টেডিয়ামকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে।
খুলনার কেন্দ্রীয় উদ্বোধনের তেজ ও অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে পড়ে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠেও। স্থানীয়ভাবে এই প্রতিযোগিতার শুভসূচনা অনুষ্ঠানে মাঠে নামে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত খুদে শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ জালাল উদ্দিন এমপি। সংসদ সদস্য মোঃ জালাল উদ্দিন এমপি মাঠ ঘুরে খুদে শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন। এ সময় তাঁর সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস, অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ জালাল উদ্দিন এমপি বলেন— "আজকের এই খুদে খেলোয়াড়রাই আগামীর বাংলাদেশ। পড়ালেখার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, মোবাইল ও অনলাইন আসক্তি থেকে দূরে রাখতে পাড়া-মহল্লায় এবং স্কুল পর্যায়ে এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়মিত করতে হবে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।"
পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দৌড়, লং জাম্পসহ বিভিন্ন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টে খুদে প্রতিযোগীরা তাদের নৈপুণ্য দেখায়।
স্থানীয় পর্যায় থেকে বাছাইকৃত সেরা প্রতিভাদের নিয়ে পরবর্তীতে উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে মূল প্রতিযোগিতার রাউন্ডগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ কেবল একটি খেলাধুলা প্রতিযোগিতা নয়; এটি এক সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন, যেখানে মাঠের ঘাস আর দৌড়ের শব্দে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে গ্রামবাংলার কৈশোর।